শিশুরা ঘরে বসে আছে দুই সপ্তাহ ধরে। বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাসায় থাকা গল্পের বইও শেষ। নতুন বই এখন আর পাবে কোথায়?

তাই শিশুরা যেন ঘরে বসেই গল্পের বইগুলো শুনতে পারে সেজন্য ব্যতিক্রমধর্মী একটা উদ্যোগ নিয়েছে লাইট অফ হোপ। শিশুতোষ লেখক-লেখিকারা তাদের লেখা বইগুলো পড়ার ভিডিও আপলোড করছে। সেখান থেকে শিশুরা এই গল্পের বইগুলো শুনতে পারবে। এরকম কয়েকশো বইয়ের ভিডিও তৈরির কাজে হাত দিয়েছে লাইট অফ হোপ।

ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। লেখক-লেখিকারা যুক্ত হচ্ছেন, প্রকাশকরা যুক্ত হচ্ছেন এই উদ্যোগে।

শিশুতোষ বই পড়ে শুনানোর এই ভিডিওগুলো পাওয়া যাচ্ছে Kids Time এর ইউটিউব চ্যানেলে।

নিচের ছবিতে ক্লিক করে ভিডিওগুলো দেখতে পাবেন।

এখন থেকে চাইলেই অভিভাবকরা প্রতিদিন কয়েকটি করে গল্পের বই পড়াতে পারবেন শিশুদের।

কেন এই উদ্যোগ? 

ইন্টারনেটের কল্যাণে Storytelling ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে অনেক আগেই। অনেক বিখ্যাত লেখক-লেখিকারা তাদের বইগুলোর ভিডিও পড়ে শুনায়। এমনকি কেবল এটির উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে আলাদা কিছু উদ্যোগ। কিন্তু এগুলোর সবগুলোই দেশের বাইরের।

বাংলাদেশে বা বাংলা বই নিয়ে এমন কোন উদ্যোগ নেই। শিশুতোষ বইয়ের এতো বড় ভাণ্ডার থাকার পরও এমন একটা উদ্যোগ থাকবে না সেটা কিভাবে হয়।

আগে আমরা গল্প শুনতাম দাদা-দাদি, নানা-নানির কাছে। রাতে বিছানায় তাদের কোলে শুয়েই রুপকথার গল্প শুনার হাতেখড়ি আমাদের আগের জেনারেশনের। এখন যুগ পাল্টেছে। দাদা-দাদির কোলে শুয়ে ঠাকুমার ঝুলির গল্প শোনা হয়না আর শিশুদের। যদিও দাদা-দাদির অভাব পূরণ হবার নয়, কিন্তু শিশুদের গল্পের বই পড়ে শুনানো ব্যাপারটি থেমে যাওয়াও ঠেকানো দরকার।

অনেকদিন ধরে ঘরে বন্দি থাকায় শিশুদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতার তৈরি হয়েছে। আশা করছি গল্পের বইয়ের এই ভিডিওগুলো তাদেরকে কিছুটা সাহায্য করবে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও এই ভিডিওগুলো থেকে শিখতে পারবেন কিভাবে শিশুদের বই পড়ে শুনাতে হয়।

অন্তত কয়েকশত গল্পের বইয়ের ভিডিও সংগ্রহ করার লক্ষ্য আমাদের। আগ্রহী লেখক এবং প্রকাশকরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন তাদের বইয়ের ব্যাপারে। যোগাযোগ করার নাম্বারঃ 01777800866.

করোনার কারণে ঘরবন্দি শিশুদের জন্য নিজেদের বই ডাউনলোড করার সুযোগ দিচ্ছে goofi.